n কিংবদন্তি খনা - বাস্তব নাকি সত্য? ///////৩ - 28 August 2011 - হিন্দু ধর্ম ব্লগ - A Total Knowledge Of Hinduism, সনাতন ধর্ম Hinduism Site
Wednesday
12-08-2020
9:31 AM
Login form
Search
Calendar
Entries archive
Tag Board
300
Site friends
  • Create a free website
  • Online Desktop
  • Free Online Games
  • Video Tutorials
  • All HTML Tags
  • Browser Kits
  • Statistics

    Total online: 1
    Guests: 1
    Users: 0

    Hinduism Site

    হিন্দু ধর্ম ব্লগ

    Main » 2011 » August » 28 » কিংবদন্তি খনা - বাস্তব নাকি সত্য? ///////৩ Added by: rajendra
    7:28 PM
    কিংবদন্তি খনা - বাস্তব নাকি সত্য? ///////৩
    প্রথম পর্বের পর

    ২য় পর্বের পর 

    খনার বিজ্ঞান

    ভারতীয় উপমহাদেশে যুগে যুগে নারী পণ্ডিতরা সম্মানিত হয়ে আসছেনঅপালা, বাক, গার্গী প্রমুখের ধারাবাহিকতায় আর একটি অমর নাম খনালোকজ জীবনের বিভিন্ন দিক, তথা কৃষি, রন্ধন, খাদ্য ও খাদ্যাভ্যাস, প্রাত্যাহিক, গৃহ-নির্মাণ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে খনার উপলব্ধি অসাধারণপর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক পাণ্ডিত্য যেভাবেই আমরা ব্যাখ্যা করি না কেন খনার সমান মর্মদৃষ্টি একালেও অনেক পণ্ডিতের মধ্যে বিরল
    লেখকের মতে "অনেকের মতে, খনা কেবল লোকবচনবা লোকশাস্ত্রখনার কাজকে বিজ্ঞানের চর্চা বলতে অনেকে নারাজআমরা খনার কাজকে বিজ্ঞান বলতে চাইখনা কেন বিজ্ঞান? বিজ্ঞান বিষয়ে লম্বা তর্কে এখানে ঢোকার সুযোগ নেইআমরা এখানে শুধু এটুকু বলতে চাই, খনা বিজ্ঞান এই জন্য যে তার চর্চার একটা বিকাশশীল পদ্ধতি আছেখনা বিজ্ঞান এই জন্য যে তা সামান্য ও বিশেষ জ্ঞান উপাদন করেখনা বিজ্ঞান এই জন্য যে তা সামান্য ও বিশেষ সত্য উপাদন করে

    খেয়াল করুন সমস্তই সাধারণের জীবন ঘনিষ্ঠজলকাদা সম্ভূতঅসংখ্য খনার বচন আমাদের কৃষিজ জীবনের কথা বলেযা থেকে আমাদের শিল্প-অর্থনীতি দৈনন্দিন জীবন বিচ্ছিন্নআর সবচেয়ে বড় কথা আমাদের সেই মানুষগুলো আর তাদের সাহিত্যরস হারিয়ে যাচ্ছেএই লিখার মূল উদ্দেশ্য খনার রাজনৈতিক গুরুত্ব উপলব্ধিআগামী পর্বে এই বিষয়ে আলোচনার আশা রাখি

    ডাক বচনও আছেপরবর্তীতে তাও আলোচনার অংশ হবে
    ডাকের বচন
    খনার বচন আমরা জানিকিন্তু ডাকের বচনকে অতটা চিনিনাঅথচ ডাকের বচন এককালে বাংলাদেশে প্রচলিত ছিলকৃষক ও বউঝিরা এই বচনগুলোকে কণ্ঠস্থ করে রাখতেনতবে খনার বচন বেশি প্রচলিত বলে তার ভাষা কালক্রমে সহজ হয়ে গেছেকিন্তু ডাকের বচন অতটা প্রখ্যাত হয় নি বলে তার ভাষার প্রাচীনতা অনেকাংশেই রক্ষা পেয়েছেডাককোন ব্যক্তিবিশেষের নাম নাও হতে পারেহয়ত একাধিক ব্যক্তি কালক্রমে বিশেষ জ্ঞানের যে পদগুলো রচনা করেছেন তাকেই ডাকের বচন বলা হয়ডাক শব্দটি ডাকিনী শব্দের পুংলিঙ্গ হতে পারেমধ্যযুগে বা প্রাচীন যুগে জ্ঞানী ব্যক্তিরা আধিভৌতিক শক্তির অধিকারী ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন"চলিত কথাঅর্থেও ডাকের বচন কথাটি প্রযুক্ত হতে পারেদীনেশচন্দ্র সেন অবশ্য ডাককে বঙ্গের সক্রেতীস্‌ বলেছেন। (বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, ১ম খণ্ড, ১৯৯৬, পৃ. ৯৪)
    খনা কৃষক ও গ্রহনক্ষত্র বিষয়ে পণ্ডিত ছিলেনতার বচনগুলির বেশিরভাগ কৃষিকাজ ও ভাগ্যগণনা সম্পর্কিতকিন্তু ডাকের বচন কিছুটা ভিন্নরকমএখানে মানব-চরিত্রের বিভিন্ন দিককে কখনও নির্মোহ কখনও বা সরাসরি ব্যাখ্যা করা হয়েছেমানবজীবনের সারাসার ডাকের বচনগুলির অন্যতম আলোচ্য বিষয়ধারণা করা হয় এই ডাকের বচনগুলি ৮০০-১২০০ খৃস্টাব্দের মধ্যে রচিত হয়েছিল
    ডাকের বচনের একটি উদাহরণ
    ক) ঘরে আখা বাইরে রাঁধে
    অল্প কেশ ফুলাইয়া বাঁধে।।
    ঘন ঘন চায় উলটি ঘাড়
    ডাক বলে এ নারী ঘর উজার।।

     

    খ) ষোল চাষে মুলাতার অর্ধেক তুলা
    তার অর্ধেক ধানবিনা চাষে পান।।
    অর্থা খনার বচন অনুসারে ধান বুনতে চার চাষের প্রয়োজনকৃষি-বিজ্ঞানীদের মতেও তাইজরিপে দেখা যায় ৭২% কৃষকই পাঁচ চাষের পক্ষে অভিমত দিয়েছেনচার চাষের পক্ষে গড়ে ১৩% কৃষক রায় দিয়েছেনএর কারণ আছে, সাধারণত আমাদের দেশের যে সমস্ত কৃষকরা হাল বলদের অভাবে ভোগে তারা পাঁচ চাষেই আস্থা পানযাদের শক্ত সামর্থ্য গরু এবং হাল আছে তাদের পক্ষে চার চাষই যথেষ্ঠফলে খনার এই বচন অবস্থাসম্পন্ন কৃষকদের জন্যেই যা আমাদের অতীত সমৃদ্ধির নজিরখনার আমলে মানুষের চাইতে কৃষি জমির সংখ্যা ছিল বেশিশুধু রাজস্ব মিটিয়ে ইচ্ছামত জমিতে চাষ করা যেতপ্রাচীন কালের কৃষকরাও ছিলেন সবলফলে চার চাষই যথেষ্ট ছিলএই সম্পর্কিত খনার আরেকটি চন আছে- সবল গরু গভরি চাষতাতে পুরে মনের আশ।। এই সংক্রান্ত আরো কিছু বচন আছে যা আমাদের কৃষিজ সংস্কৃতি, প্রাণী এবং মানুষের সম্পর্ক প্রভৃতি বিষয়কে তুলে আনে
    #
    গাই দিয়ে বায় হালদুঃখ তার চিরকাল।।
    #
    গরুর মুখে ঘাস পানিহাল গৃহস্থি পরে জানি
    #
    বাপ বেটায় চাষ চাইতদ অভাবে সোদর ভাই।।

    #কার্তিকের ঊনজলেখনা বলে দুনো ফলে।।
    -
    কার্তিক মাসে ধান ক্ষেতে কম পানি থাকলে ও কম বৃষ্টি লে দ্বিগুন ফসল ফলেকুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও দিনাজপুরের কৃষকেরা ৯৯%, ৯৭% ও ৯৮% রায় দিয়েছেন এই বচনের পক্ষে

    #চাঁদের সভার মধ্যে তারাবর্ষে পানি মুষল ধারা
    -
    চাঁদের সভা বিষয়টি আমি বুঝিনি কেউ বুঝে থাকলে জানাবেনতবে আমাদের কৃষকদের প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞানের বিষয়টিই এখানে উঠে আসেএখনকার ৪৫% কৃষক মনে করেন এই অবস্থায় বৃষ্টি হয়সম্ভবত চন্দ্র সভা কদাচি দেখা যায় যে কারণে এই সম্পর্কে কেউ জানেন নাপ্রসঙ্গত, ১৩৮৫ সালে জৈষ্ঠ্য মাসের এক সন্ধ্যায় ক্ষুদ্রাকৃতির এক চন্দ্রসভা দেখা যায় এবং পরদিন অনেক বৃষ্টি হয়

    #মাঠে গিয়ে আগে দিক নিরূপণপূর্ব দিক হতে কর হাল চালন।।
    -
    এই বিষয়ে রায় দিয়েছেন ৭৯% কৃষক যারা দক্ষিণ হতে পূর্বে হাল শুরুর পক্ষেযে কোন দিকের পক্ষেও মত আছেতবে বিষয় হচ্ছে এই জরিপের লোকেরা কৃষি ঘনিষ্ট ননআরো একটি বিষয় তাপর্যপূর্ণ, ইসলাম ধর্মের আগমনের পরে খনার বচনের নানা দিকের মধ্যে এই বচনটিও পাল্টে গেছেময়মনসিংহের একজন মাওলানা পশ্চিম দিক থেকে হাল চালনা শুরুর কথা বলেছেন তিনি মনে করেন কাবার দিক হতেই হাল চলনা করা উচিতযাইহোক, খনার পূর্ব দিক দক্ষিণ-পূর্ব দিকও হতে পারেপূর্ব দিক হতে হাল শুরু করে ক্রমশ পশ্চিমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছেবংশানুক্রমিক বিবর্তনে তা হয়তো পাল্টে গেছে

    পরবর্তী পর্বে সমাপ্য

    Views: 739 | Added by: rajendra | Tags: khonar bochon, khona, খনার বচন, খনা | Rating: 0.0/0
    Total comments: 1
    0  
    1 Hinduism   (29-08-2011 1:03 AM) [Entry]
    দারুণ লাগছে, পরের পর্বে এরকম আরো কিছু চমৎকার তথ্যের অপেক্ষায় আছি।

    Only registered users can add comments.
    [ Registration | Login ]